মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় মা ও মেয়েকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম মাহবুবকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। একইসঙ্গে রুমার ইউএনও মো. এমদাদুল হক শরীফকে পেকুয়ার নতুন ইউএনও হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি আদেশ জারি হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রেহেনা মোস্তফা রানু (৪২) ও তার মেয়ে জুবাইদা বেগম (২১) একটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের অনুকূলে দেওয়ার জন্য পেকুয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা পল্লব কুমার ঘোষকে ঘুষ দেন। কিন্তু পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন তাদের বিপক্ষে যায়।
গত ৪ মার্চ ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে থানায় গেলে মা-মেয়েকে সেখানে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব তাদের উপস্থিতি ছাড়াই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এক মাস করে কারাদণ্ড দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলমের আদালতে আপিল করা হলে তিনি মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিষয়টি নজরে আসার পর কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম স্বপ্রণোদিত হয়ে ৮ মার্চ পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আদালতে তলব করেন।
আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সংঘটিত অপরাধ এবং অভিযুক্তের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। পূর্বে গ্রেফতারকৃত বা হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে মোবাইল কোর্টে উপস্থাপনের সুযোগ আইনে নেই।
এদিকে, ঘটনাটি তদন্তে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আদালতের তলব ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থাতেই বিতর্কিত ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুবকে পেকুয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
